আদমদীঘিতে বিতর্কের মুখে বিতর্কিত ওসি কামরুজ্জামান: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পদায়ন ঘিরে চাঞ্চল্য
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর থানায় কর্মরত থাকাকালে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে গণগ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগে ক্লোজ হওয়া পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামানকে বগুড়ার আদমদীঘি থানায় নতুন করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর একজন বহুল বিতর্কিত কর্মকর্তার এমন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যুবলীগের মিছিলে উপস্থিতি ও বিতর্কিত অতীত
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর তানোর থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে কামরুজ্জামান সরাসরি ক্ষমতাসীন আওয়ামী যুবলীগের একটি রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেন। একজন পোশাকধারী পুলিশ কর্মকর্তার দলীয় মিছিলে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর মাধ্যমে তিনি পেশাগত নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্বাচনী সহিংসতা ও 'গায়েবি' মামলার বাণিজ্য
২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের সময় ওসি কামরুজ্জামান সম্পূর্ণ একপেশে ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের দমনে তিনি তৎকালীন সরকারি দলের ক্যাডারদের মতো আচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ঘটনা ছাড়াই তিনি শতাধিক 'গায়েবে' মামলা দায়ের করেন এবং ব্যাপক বাণিজ্য ও হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও প্রত্যাহার (ক্লোজ)
গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ওসি কামরুজ্জামানকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহৃত (ক্লোজ) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
আদমদীঘি থানায় বিতর্কিত পদায়ন
বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং ক্লোজ হওয়া একজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি বগুড়ার আদমদীঘি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রভাবশালী মহলের 'অবৈধ তদবির' ও মোটা অঙ্কের বাণিজ্যের বিনিময়ে তাকে পুনরায় মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই থানায় পদায়ন করা হয়েছে।
জনমনে অসন্তোষ ও সুশাসনের প্রশ্ন
অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করে নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থাশীল করার জোর দাবি উঠেছে, সেখানে কামরুজ্জামানের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনরাগমনকে প্রশাসনের সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
আদমদীঘির স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "যে কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলের মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন, তাকে আবার ওসির দায়িত্ব দেওয়া স্বৈরাচারী ব্যবস্থারই পুনর্বাসন।"
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিতর্কিত এই ওসির পদায়ন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল।